বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২১st সেপ্টেম্বর ২০২১

গ্রন্থাগার ইতিহাস, সেবা ও কার্যক্রম

 

শেখ রাসেল শিশু গ্রন্থাগার

বাংলাদেশ শিশু্ একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সকল শাখায় শিশু গ্রন্থাগার রয়েছে। এতে শিশু-কিশোরদের উপযোগী দেশি- বিদেশি বই রয়েছে। গ্রন্থাগারে এসে শিশুরা বই পড়তে পারে এবং শুধুমাত্র সদস্যারা বই ইস্যু করে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে।

 বাংলাদেশ শিশু্ একাডেমি গ্রন্থাগারনেটওয়ার্ক সরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় শিশু-কিশোরদের জন্য ব্যাপক তথ্যভান্ডার ও যোগাযোগ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের গ্রন্থাগারটি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ডিজিটালাইজড অটোমেটেড ও আকর্ষনীয় ইন্টেরিওর ডিজাইন সমৃদ্ধ। শিশুবান্ধব এই গ্রন্থাগারে রয়েছে একসাথে ২০০ জন শিশু-কিশোরের বই পাঠের সুবিধা। এছাড়াও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সাথে 08 বিভাগীয় কার্যালয় গ্রন্থাগারসমূহকে একই নেটওর্য়াকের আওতায় আনা হয়েছে।  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের স্মৃতি রক্ষার্থে কেন্দ্রীয় কার্যালয় গ্রন্থাগারটির নামকরণ করা হয়েছে শেখ রাসেল শিশু গ্রন্থাগার; গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন।

বই পাঠের পাশাপাশি  শিশু- কিশোরদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এই গ্রন্থাগারে রয়েছে বঙ্গবন্ধুকে জানো বাংলাদেশকে জানো শীর্ষক বঙ্গবন্ধু কর্ণার। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য গ্রন্থাগারে রয়েছে অডিও-ভিজ্যুয়াল রুম থিয়েটার ও কমিউনিকেশন ইউনিট। যেখানে শিশু-কিশোরদের কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্লগিং, অনলাইন কুইজ ও অনলাইন বুক রিডিংসহ বিভি সুবিধা প্রদান করা হয়। এছাড়াও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের জন¨ রয়েছে ব্রেইল কর্ণার এবং অনুর্ব্ধ -৫বয়সী  শিশুদের উপযোগি বুক সেলফ তৈরি করা হয়েছে।¨|

গ্রন্থাগার সংগ্রহঃ ৩৭০০+ বই
গ্রন্থাগার সদস্য সংখ্যাঃ ৫০০০+ জন 
গ্রন্থাগার পাঠক সংখ্যাঃ ১০০ জন (দৈনিক গড়ে)
বই ইস্যু সংখ্যাঃ ৫০ টি (দৈনিক গড়ে)
 
গ্রন্থাগার সময় সূচিঃ  সপ্তাহে ৭দিন, সকাল ১০.০০ টা থেকে বিকেল ৪.৩০টা পর্যন্ত (বর্তমানে করোনাকালীন বিশেষ ছুটিতে শুক্রবার ও শনিবার পাঠকসেবা বন্ধ আছে)।
 
     
সদস্য হওয়ার নিয়মাবলী
 
১. ০৬ বছর থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশু সদস্য হতে পারবে।
২. সদস্য হতে বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর হিসাব বিভাগ থেকে গ্রন্থাগার সদস্য ফরম (১২০.০০ একশত বিশ টাকা)  সংগ্রহ করে চাহিত তথ্যাদি পূরন করে গ্রন্থাগার শাখায় জমা দিতে হবে।
৩. সদস্য ফরম এর সাথে ২ (দুই) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।
     বই সংগ্রহের নিয়মাবলী:
৪. সদস্য কার্ড দ্বারা ১ জন শিশু সর্বোচ্চ ২টি বই ১৫ দিনের জন্য ইস্যু করতে পারবে।
৫. গ্রন্থাগার চলাকালিন সময়ে যে কেউ এসে বই পড়তে পারবে।
৬. শুক্রবার ও শনিবার গ্রন্থাগার সেবা শুধুমাত্র শিশু পাঠকদের জন্য।
 

গ্রন্থাগারের সেবাসমূহ

শিশু-কিশোরদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও গ্রন্থাগারের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অন্যাb¨ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হয়ে থাকে-

  • পাঠক সেবা
  • বই লেন-দেন
  • পাঠচক্র
  • বঙ্গবন্ধু কর্ণার
  • লাইব্রেরি আউট-রিচিং সার্ভিস
  • রেফারেন্স সার্ভিস
  • গ্রন্থাগারাভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যাক্রম
  • অডিও-ভিজ্যুয়াল এন্ড ডকুমেন্টারী প্রোগ্রাম
  • আউটর্সোর্সিং এন্ড রির্সোস শেয়ারিং প্রোগ্রাম
  • চিলেন্ড্রেন লিটারেসি প্রোগ্রাম
  • সেরা পাঠক নির্বাচন ইত্যাদি।
  •  

গ্রন্থাগার বিভাগের নিয়মিত কার্যক্রম:


গ্রন্থাগার বিভাগের সংগ্রহসমূহ প্রক্রিয়াকরণের (এক্সসেশন, ক্লাসিফিকেশন ক্যাটালগিং, বুক লেভেলিং, সেল্িফং ইত্যাদি) নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। 
    
 গ্রন্থাগারে সংগ্রহের জন্য পুস্তক ক্রয় :


উদ্দেশ্যে: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা ও ০৬টি উপজেলা গ্রন্থাগারসমূহের  সংগ্রহকে সমৃদ্ধ করা।


উপকারভোগীর সংখ্যা: বছরে গড়ে প্রায় পনর হাজার শিশু-কিশোর, লেখক, গবেষক, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের  কর্মকর্তা,  বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দপ্তর সংস্থার প্রতিনিধি, বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন বিদেশী পরিদর্শক গ্রন্থাগার পরিদর্শন ও রেফারেন্স সেবা গ্রহন করে থাকে।


কর্মসূচির বিবরণ: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, জেলা ও উপজেলা গ্রন্থাগারসমূহে সংগ্রহের জন্য বইয়ের তালিকা প্রস্তুত করে বই ক্রয় করা হয় এবং জেলা ও উপজেলা শাখা গ্রন্থাগারে সংরক্ষণের জন্য   প্রেরণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৬টি শিরোনামের সর্বমোট ২৫৪ কপি বই ক্রয় করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেল শিশু গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হয়েছে।


বাস্তবায়ন এলাকা: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা ও ০৬টি উপজেলা।

 

গ্রন্থাগারভিত্তিক শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা :


উদ্দেশ্যে: জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি ও গ্রন্থাগারের প্রতি আগ্রহী করে গড়ে তোলা।


উপকারভোগীর সংখ্যা: বছরে প্রায় পাঁচ হাজার শিশু-কিশোর সরাসরি এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হয়।


কর্মসূচির বিবরণ: বই পাঠের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা যেমন মুক্ত আলোচনা, কুইজ, বিতর্ক, বক্তৃতা, সৃজনশীল রচনা, পাঠচক্র, সাধারন জ্ঞান ইত্যাদি ছাড়াও সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ^ শিশু দিবস-২০১৯ উপলক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন াশেখ রাসেল শিশু গ্রন্থাগারে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুকে জানো বাংলাদেশকে জানো কর্ণার উদ্বোধন ও পরিদর্শন করেন। এছাড়া ০৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইং তারিখে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুক্ত আলোচনা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, কুইজ, সাধারন জ্ঞান ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করা হয়।করোনা মহামারী জনিত কারণে গ্রন্থাগার বিভাগের পাঠক সেবা আপাতত বন্ধ আছে, কিন্তু গৃহবন্দী শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে সম্পৃক্ততার লক্ষ্যে অনলাইনভিত্তিক কুইজ অনুষ্ঠান চলমান রয়েছে। 


বাস্তবায়ন এলাকা: বাংলাদেশ শিশু একাডেমির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ৬৪টি জেলা ও ০৬টি উপজেলা।

 

 


Share with :

Facebook Facebook